ঘুমের মৌলিক ধারণা
ঘুম মানব জীবনের একটি অপরিহার্য অংশ, যা শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঘুমের সংজ্ঞা হল এমন প্রক্রিয়া, যেখানে আমাদের মস্তিষ্ক ও শরীর কিছু সময়ের জন্য অবশ হয়ে যায়, এর ফলে পুনরুদ্ধারের একটি পর্যায় শুরু হয়। সাধারণত, মানব দেহের জীবন চক্রের ক্ষেত্রে ঘুম একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যা শারীরিক ও মানসিক কার্যকলাপের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে।
ঘুমের প্রধান দুটি প্রকার হলো গভীর ঘুম এবং REM (Rapid Eye Movement) ঘুম। গভীর ঘুম হলো সেই পর্যায় যেখানে দেহের পেশী ও মস্তিষ্কের কার্যকলাপ অত্যন্ত কমে যায়। এই পর্যায়ে শরীর বিশেষভাবে মেরামত ও পুনরুদ্ধারের কাজ সম্পন্ন করে, যা শারীরিক স্বাস্থ্য ও শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। অপরদিকে, REM ঘুম গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি আমাদের মনস্তাত্ত্বিক ও আবেগীয় স্বাস্থ্যকে পুনরুদ্ধার করে। এই পর্যায়ে আমরা স্বপ্ন দেখি এবং মনোবিজ্ঞানী গবেষণায় দেখা গেছে, REM ঘুম চিন্তাভাবনা, স্মৃতি ও আবেগের প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ঘুমের এই মৌলিক ধারণাটি আমাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কযুক্ত। যেসব ব্যক্তির পর্যাপ্ত অর্থাৎ গুণগত ও পরিমাণগত ঘুম নেই, তারা শারীরিক অসুস্থতা এবং মানসিক চাপের শিকার হতে পারেন। কাজেই ঘুমের সঠিক অনুশীলন এবং স্বাস্থ্যকর অভ্যাসগুলি আমাদের সুস্থ থাকার জন্য অপরিহার্য।
ঘুমের অভাবের প্রভাব
ঘুমের অভাব আমাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে। প্রয়োজনীয় পরিমাণ ঘুম না পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অবসাদ একটি সাধারণ সমস্যা হিসেবে দেখা গেছে। ঘুমের মাধ্যমে শরীর তার শক্তি পুনরুদ্ধার করে এবং অবসাদগ্রস্ত অবস্থায় এটি আরও গুরুতর হয়ে উঠতে পারে। যে সমস্ত ব্যক্তিরা নিয়মিতভাবে ঘুমের অভাবে ভুগছেন, তাদের মধ্যে ক্লান্তির অনুভূতি বাড়ে, যা দৈনন্দিন কাজকর্মে বাধা সৃষ্টি করে।
মনের স্বাস্থ্যেও ঘুমের অভাব একটি গুরুতর সমস্যা তৈরি করতে পারে। ঘুমের অভাবে মনোসংযোগের অভাব দেখা দিতে পারে, যার ফলে শিখন এবং কাজের প্রক্রিয়া কঠিন হতে পারে। কার্যকলাপের মধ্যে স্বতঃস্ফূর্ততা এবং সৃষ্টিশীলতা কমে যায়, যা কর্মক্ষমতা হ্রাস ঘটায়। এর পাশাপাশি, চলমান মানসিক চাপ এবং উদ্বেগের কারণও হয়ে দাঁড়ায়, যা পরবর্তীতে হতাশার লক্ষণ প্রকাশ করতে পারে।
শারীরিক স্বাস্থ্যেও ঘুমের অভাবের ক্ষতিকারক প্রভাব আছে। নিয়মিত গভীর ঘুমের অভাব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাসের ফলশ্রুতিতে স্বাস্থ্যঝুঁকি বৃদ্ধি করে। এমনকি প্রয়োজনীয় ঘুম না পেলে বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, ফলে একাধিক শারীরিক সমস্যার উচ্চ সম্ভাবনা দেখা দেয়। এটি বিভিন্ন ক্রনিক রোগের ঝুঁকিও বৃদ্ধি করে, যেমন হৃদরোগ এবং ডায়াবেটিস। অতএব, ঘুমের গুরুত্ব উপলব্ধি করা অত্যন্ত জরুরি, কারণ এটি আমাদের ভালোবাসা জীবন, কাজ, এবং স্বাস্থ্য সবকিছুর জন্য ভিত্তি।
ঘুমের গুণগত মান
ঘুমের গুণগত মান আমাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। এক্ষেত্রে, শুধু ঘুমের সময়কাল নয় বরং ঘুমের মানও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানসম্মত ঘুম আমাদের শরীরের জন্য পুনর্জীবনীশীল এবং মস্তিষ্কের জন্য অত্যাবশ্যক। গবেষণায় দেখা গেছে যে, ভালো গুণগত মানের ঘুম স্নায়ু সম্পর্কিত উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেয় এবং এটি সকল বয়সের মানুষের জন্য প্রয়োজনীয়।
ঘুমের গুণগত মান বলতে বোঝায়, ঘুমের মধ্যে আমাদের দেহ কতটা বিশ্রাম পায় এবং তা কতটা গভীর হয়। সুস্থ ঘুমের সময়ে, আমাদের দেহ বিভিন্ন পর্যায়ের মধ্য দিয়ে যায়, যেমন REM ঘুম এবং নন-REM ঘুম। এই পর্যায়গুলো আমাদের শরীরের জন্য বিভিন্ন স্বাস্থ্যের সামাজিকক দিক প্রকাশ করে, যেমন হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্য, মোটা, এবং চিন্তার প্রক্রিয়া। খারাপ ঘুমের ফলে, নেপথ্যে থাকা জৈবিক প্রক্রিয়াগুলো বিঘ্নিত হয়, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস ঘটাতে পারে।
ঘুমের গুণগত মান উন্নত করার জন্য কিছু পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে। প্রথমত, একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ সময়সূচী তৈরি করলে শরীরের বায়োলজিক্যাল ক্লককে সমন্বয় করা সহজ হয়। দ্বিতীয়ত, ঘুমের পরিবেশ উন্নত করা, যেমন অন্ধকার এবং শান্ত ঘর, ভালো ঘুমে সহায়ক। তৃতীয়ত, ক্যাফেইনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা এবং ঘুমের পূর্বে ভারী খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত। পাশাপাশি, শারীরিক কার্যকলাপ এবং সহজ যোগব্যায়াম ঘুমের মান বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
সঠিক ঘুমের সময়সূচি তৈরির কৌশল
সঠিক ঘুমের অভ্যাস গড়ে তোলার জন্য কিছু কৌশল এবং পরামর্শ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, একটি নির্দিষ্ট সময়ে শোয়া এবং উঠার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। এটি শরীরের স্বাভাবিক ঘড়ি বা ‘ক্রিক্যাডিয়ান রিদম’ কে সমর্থন করে, যা ঘুমের গুণমান উন্নত করে। প্রতিদিন একই সময়ে শোয়া এবং উঠলে শরীর ব্লু প্রিন্ট প্রস্তুত করে এবং সময়মতো ঘুমের প্রস্তুতি নিতে সাহায্য করে।
দ্বিতীয়ত, প্রযুক্তি ব্যবহার থেকে বিরত থাকা গুরুত্বপূর্ণ। আধুনিক সময়ে, স্মার্টফোন এবং অন্যান্য ডিভাইসগুলি আমাদের ঘুমের সার্কাডিয়ান লুপে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, রাতে স্ক্রীন টাইম ঘুমের মানেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই, ঘুমানোর এক থেকে দুই ঘন্টা আগে ফোন বা ট্যাবলেট ব্যবহার না করা উচিত। বরং, বই পড়া বা সংগীত শোনা একটি ভালো বিকল্প হতে পারে যা মনকে শান্ত করে।
শিথিলকরণ কৌশলগুলোও সঠিক ঘুমের জন্য অত্যন্ত কার্যকর। বিভিন্ন শিথিলকরণ ব্যবস্থা, যেমন গहरी শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম, মেডিটেশন বা ইয়োগা অনুশীলন, শরীর এবং মনের চাপ কমাতে সাহায্য করে। এই কৌশলগুলো ঘুমাতে যাওয়ার আগে অন্তত ১৫ মিনিটের জন্য আমল করতে পারেন। এটি শরীরের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী এবং ঘুমের সময় মানসিক শান্তি ও স্থিরতা এনে দেয়।
পরিশেষে, স্বাস্থ্যকর খাদ্যের অভ্যাস গড়ে তোলার মাধ্যমে সঠিক ঘুমের সময়সূচি তৈরি করা সম্ভব। দেহে নিয়মিত পুষ্টি প্রবাহ নিশ্চিত করলে শরীরের ক্লান্তি ভরিয়ে তুলতে সাহায্য করে, যে কারণে রাতে ভালোভাবে ঘুমানো যায়।
ঘুমের পরিবেশের গুরুত্ব
মানসিক শান্তি এবং শারীরিক স্বাস্থ্য বজায় রাখতে ঘুম একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তবে, ঘুমের গুণগত মান বাড়াতে পরিবেশের প্রভাব অপরিসীম। আলো, শব্দ, তাপমাত্রা, এবং বিছানার মান এই গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। ঘুমের স্থান সঠিকভাবে তৈরি করা গেলে ঘুমের গুণগত মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হতে পারে।
প্রথমে, আলো এক গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করে। সঠিক আলো ফিরিয়ে আনার জন্য এবং ঘুমের সময়ে পর্যাপ্ত অন্ধকারের উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য ঘুমের কক্ষের আলো নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন। অতিরিক্ত আলো মেলাটোনিনের মাত্রা কমিয়ে ঘুমের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। তাই রাতের বেলায় অন্ধকার পরিবেশ তৈরি করা ঘুমের গুণগত মান উন্নত করতে সাহায্য করে।
শব্দও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অনিয়ন্ত্রিত শব্দগুলি যেমন ট্রাফিক এবং জনসাধারণের কথা, ঘুমকে প্রভাবিত করতে পারে। নিরবতার জন্য ঘুমানোর সময় বন্ধ করতে চাইলে সাউন্ড প্রুফিং বা হরিজেন্টাল শব্দ রোধক ব্যবস্থার ব্যবহার করা উচিত। শান্ত পরিবেশ তৈরি করতে হোয়াইট নইজ মেশিনের সাহায্যও নেওয়া যেতে পারে।
তাপমাত্রার কথাও উল্লেখ করা উচিত। কাউকে অধিক গরম বা ঠাণ্ডা পরিবেশে ঘুমাতে হলে তা ঘুমের মানকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। সাধারণত ২০-২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ঘুমানো সবচেয়ে উপযুক্ত।
শেষত, বিছানার মান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আরামদায়ক এবং সহায়ক গद्दা এবং বালিশ ব্যবহারের ফলে শরীরের সমর্থন এবং আরাম বৃদ্ধি পায়, যা ঘুমের গুণগত মান নিশ্চিত করে। তাই ঘুমের পরিবেশে এই বিষয়গুলোকে মাথায় রেখে যথাযথ ব্যবস্থা নিলে স্বাস্থ্যকর ঘুম নিশ্চিত করা সম্ভব।
খাবারের ভূমিকা ঘুমে
ঘুমের গুণগতমান और স্থায়িত্বে খাদ্য নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সঠিক সময়ে সঠিক খাবার গ্রহণ করলে ঘুমের প্রক্রিয়া উন্নত হয়, যারা গভীর এবং শান্ত خوابের জন্য চেষ্টা করছেন, তাদের জন্য থালার সামগ্রীর প্রতি নজর রাখা অপরিহার্য। মূলত, খাদ্যের গুণগতমানের পাশাপাশি খাবার গ্রহণের সময়ও ঘুমের প্রভাবকে নির্দেশ করে। রাতে ঘুমানোর আগে ভারী এবং তেলময় খাবার সাধারণত দ্রুত ঘুমের প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করে, কারণ এটি শরীরকে হজমে অধিক শক্তি ব্যয় করতে বাধ্য করে। ফলে ঘুমের মান হ্রাস পায়।
কিছু নির্দিষ্ট ধরনের খাবার ও পানীয় রয়েছেযা ঘুমের জন্য সহায়ক। যেমন, দুধ, যারা দুধের পণ্য গ্রহণ করে তাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি প্রদান করে, কারণ এতে ‘ট্রিপটোফান’ নামক অমিনো অ্যাসিড থাকে যা শরীরে সেরোটোনিন এবং মেলাটোনিন উৎপাদনে সহায়তা করে। মেলাটোনিন একটি গুরুত্বপূর্ণ হরমোন যা ঘুমের চক্রকে নিয়ন্ত্রণ করে। এছাড়া, বাদাম, কলা, এবং ভাজা মাছও এ ধরনের খাবারের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত যা ঘুমকে সহজ করে।
অপরদিকে, ক্যাফেইনজাতীয় পানীয় যেমন কফি বা কার্যকরী শক্তি পানীয় ঘুমের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। সেগুলি যখন রাতে গ্রহণ করা হয় তখন শরীরকে আরও সচেতন এবং সতর্ক করে তোলে, যা সাধারণত স্বাভাবিক ঘুমের সংযোগকে ভেঙে দিতে পারে। এছাড়াও, অ্যালকোহল পান করাও এমন পরিস্থিতি তৈরি করে যেখানে ঘুমের জন্য প্রয়োজনীয় প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। খাবারের গুণগতমান এবং ঘুমের ওপর এর প্রভাব ব্যাপকভাবে আমাদের শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে, তাই খাদ্যাভ্যাসে করলে পরিবর্তন এনে সুস্থভাবে ঘুমানো সম্ভব।
মেডিটেশন ও শিথিলতা Techniques
মানসিক শান্তি অর্জন এবং শারীরিক সুস্থতার জন্য মেডিটেশন ও শিথিলতা কৌশল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই কৌশলগুলি শুধুমাত্র মনকে প্রশান্ত করতে সহায়ক নয়, বরং এটি ঘুমের গুণগত উন্নতির জন্যও কার্যকর। গবেষণায় দেখা গেছে, যা ব্যস্ত জীবনধারার ফলে আমাদের উপর চাপ সৃষ্টি করে, মেডিটেশন সেই চাপ নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্যভাবে সক্ষম।
গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের কৌশলগুলি মেডিটেশনের একটি অপরিহার্য অংশ। এই কৌশলগুলি ব্যবহার করে জীবনযাত্রায় লাগাতার চাপ মোকাবেলা করা সম্ভব। উদাহরণস্বরূপ, গভীর শ্বাস গ্রহণ এবং ধীরে ধীরে ব্ল্যাক করা আমাদের হৃদস্পন্দনকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং শরীরকে শিথিল করে। এটি শুধু মানসিক চাপ হ্রাসে সাহায্য করে না, এছাড়াও এটি ঘুমের সময় বৃদ্ধি করে এবং ঘুমের গুণমান উন্নত করে।
কার্যকরী মেডিটেশন অনুশীলনের একটি সহজ পদ্ধতি হল “মাইন্ডফুলনেস মেডিটেশন”। এই কৌশলে মনকে বর্তমানের প্রতি কেন্দ্রীভূত করা হয়, যা আমাদের চিন্তাধারাকে পরিষ্কার করতে এবং অতীত বা ভবিষ্যতের চিন্তার ঝামেলা থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করে। হাজার হাজার বছর ধরে ব্যবহৃত এই পদ্ধতি, বর্তমান সময়ের গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে এটি মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত লাভজনক।
অবশেষে, মেডিটেশন ও শিথিলতা কৌশলগুলি সহজে সুস্পষ্ট করা সম্ভব, যা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে সামগ্রিক চাপ কমাতে তথা মানসিক শান্তি পাওয়ার জন্য অপরিহার্য। নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে, এই কৌশলগুলি ঘুমের মান উন্নত করতে একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে কাজ করতে পারে।
সর্বাধিক ঘুমের স্বাস্থ্যের জন্য সংকেত
মানসিক শান্তি এবং শারীরিক স্বাস্থ্য নিশ্চিত করার জন্য পর্যাপ্ত النوم একটি অপরিহার্য উপাদান। আমাদের শরীর বিভিন্ন সংকেত দ্বারা ঘুমের প্রয়োজনীয়তা জানায়। এই সংকেতগুলি চিহ্নিত করা একটি গুরুত্বপূর্ন কাজ, যা আমাদের স্বাস্থ্য রক্ষা করতে সহায়ক হতে পারে। ঘুমের সংকেতের মধ্যে ক্লান্তি, মাথাব্যাথা, এবং মনোযোগ কেন্দ্রতাহীনতা অন্তর্ভুক্ত। যখন আমাদের শরীর এই সংকেতগুলি দেয়, তখন এটি সম্ভবত একটি অপরিহার্য সঙ্কেত যে আমাদের বিশ্রাম নেওয়ার সময় এসেছে।
একটি সাধারণ লক্ষণ হলো ক্লান্তি অনুভব করা। যখন মানুষের শরীর সীমাহীন ক্রিয়াকলাপে যুক্ত থাকে, তখন ক্লান্তির অনুভূতি তৈরি হয়, যা বোঝায় যে অতিরিক্ত কাজের ফলে বিশ্রামের প্রয়োজন। এর পাশাপাশি, যদি কোনো ব্যক্তি দীর্ঘ সময় জেগে থাকে বা একটানা কাজে নিমগ্ন থাকে, তাহলে তার মনোযোগ কেন্দ্রীভূত রাখতে অসুবিধা হতে পারে। এটি মানসিক চাপ সৃষ্টি করে এবং বেশি সময় ধরে চলতে থাকলে তা স্বাস্থ্য সমস্যায় রূপ নিতে পারে।
শরীরের সংকেত বুঝতে হলে কিছু কৌশল অনুসরণ করা জরুরি। একটি কৌশল হলো নিয়মিত ঘুমের সময় নির্ধারণ করা। এটির মাধ্যমে শরীরের অভ্যাসগত বেঁধে দেওয়া ঘুমের প্রয়োজনীয়তা বুঝতে সহজ হয়। এরপর, শরীরের ইশারাগুলি পর্যবেক্ষণ করা, যেমন কখন ও কেন ক্লান্তি অনুভূত হচ্ছে, তা গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া, ধ্যান এবং শিথিলকরণের বিভিন্ন কৌশলগুলি অবলম্বন করেও আমরা আমাদের দেহের সংকেতগুলি আরও ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পারি।
সবশেষে, ঘুমের সংকেত চিহ্নিত করা এবং সঠিক সময়ে বিশ্রাম নেওয়া আমাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য দুইটির জন্যই অত্যাবশ্যক। এটিকে অবহেলা করলে স্বাস্থ্য সম্পর্কিত বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে, যা পরবর্তীতে গুরুতর রোগে রূপ নিতে পারে।
উপসংহার ও সুপারিশ
ঘুম, যা প্রযোজনার ঘুম হিসেবেও পরিচিত, মানসিক শান্তি এবং শারীরিক স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম। এটি শরীরের উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে, অতিরিক্ত বিরতি এবং পুনরুদ্ধার সাধন করে। সুস্থ ঘুম স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে, যার ফলে শরীর এবং মনের মধ্যে संतুলন প্রতিষ্ঠা হয়। ক্রমবর্ধমান চাপ এবং দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততার কারণে অনেক লোক ঘুমের অভাবে ভ suffering গ্রস্ত হয়ে পড়েছেন, যা তাদের স্বাস্থ্যের জন্য ভয়াবহ প্রভাব ফেলতে পারে। সুতরাং, ঘুমের গুরুত্বের প্রতিটি দিক সম্পর্কে সচেতন হওয়া অত্যন্ত জরুরি।
সুপ্রশিক্ষিত ঘুমের অভ্যাস গড়ে তোলার জন্য কিছু চূড়ান্ত সুপারিশ করা যেতে পারে। প্রথমত, একটি সুষ্ঠু সময়সূচী অনুসরণ করা জরুরি, যেখানে প্রতি রাতে একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং সকালে এক সময়ে ওঠা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এটি শরীরের ভিতরের ঘড়ি বা সার্কেডিয়ান রিদমকে স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক হয়। দ্বিতীয়ত, ঘুমের পরিবেশ ঠিকঠাক রাখা প্রয়োজন। তাপমাত্রা, আলো এবং শব্দের স্তর নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, যাতে ঘুমের সময়ে আরামদায়কতা বজায় থাকে।
তৃতীয়ত, শারীরিক এবং মানসিক চাপ কমানোর জন্য যোগব্যায়াম, মেডিটেশন এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। এসব অভ্যাস ঘুমের গুণমান উন্নত করতে সাহায্য করে। চতুর্থত, ক্যাফেইন এবং অ্যালকোহলের ব্যবহারে বিধি-নিষেধ আরোপ করা উচিত, বিশেষ করে রাতের সময়ে। সবশেষে, আধুনিক প্রযুক্তি ও স্মার্টফোনের ব্যবহার রাতের বেলায় কমিয়ে আনা উপকারী। ঘুমের অভ্যাসের উন্নতি করতে প্রত্যেকেরই মনোনিবেশ করা উচিত যাতে শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা করা যায়।
